RAS পদ্ধতি মাছ চাষে ডিজাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ শত ভাগ প্রযুক্তিগত টেকসই না হলে সফলতা পাওয়া সম্ভব না। তাই RAS নির্মাণ এর প্রথমিক পর্যায়ে এই বিষয়ে ভাল ভাবে জানা ও এবিষয়ে পেকটিক্যাল নলেজ সম্পন্ন টেকনোলজিস্ট এর পরামর্শ গ্রহণ জরুরী।
ওয়াটার ম্যানেজ ম্যানেজমেন্ট এর উপর ভিত্তি করে RAS দুই ভাবে করা যায়। যথা-
১. বায়োফিল্টার পদ্ধতি ও
২. ম্যাকানিকেল ফিল্টার পদ্ধতি।

১. বায়োফিল্টার পদ্ধতি : এই পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে পানি থেকে মাছের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস দূর করা হয়। ফলে ট্যাংক এর পানির পরিবেশ উন্নত হয় এবং মাছের পিড়ন জনিত ক্ষতির প্রভাব কাটিয়ে রোগজীবাণুর আক্রানত হওয়ার সম্ভাবনাকে হ্রস করে ও অক্সিজেন বৃদ্ধি করে ফলে মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আর এই বায়োফিল্টার বিভিন্ন বায়োমিডিয়া ব্যাবহার করে কম খরচে সহজেই সেট করা যায়। আর এটি একটি টেকসই প্রয়ুক্তি এবং বাংলাদেশে বায়োফিল্টার পদ্ধতি নিরাপদ ও ১০০% কর্যকর, আস্থাশীল।
প্রয়োজনীয় অংশ : এই পদ্ধতিতে নিম্নক্ত ট্যাংক ও মেশিনারীজ প্রয়োজন।
ক. চাষ ট্যাংক
খ. সলিড সেটেলিং ট্যাংক
গ. সলিড সেপারেটর ট্যাংক
ঘ. বায়োফিল্টার ট্যাংক
ঙ. রিজার্ভার ট্যাংক
চ. ওয়াটার টিটমেন্ট ট্যাংক
ছ. এয়ার ব্লুয়ার ও অক্সিজেন সিলিন্ডার
জ. এয়ার ইনজেক্টর
ঝ. ওয়াটার হিটার ও হট ব্লুয়ার
ঞ. কন্ট্রোল সেট ইত্যাদি।
২. মেকানিক্যাল ফিল্টার পদ্ধতি : এই পদ্ধতিতে বেশির ভাগ কৃত্রিম ভাবে সেট করা হয়। এখানে বিভিন্ন মেকানিক্যাল ফিল্টারের মাধ্যমে, পানি থেকে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস দূর ও পানিকে জীবাণু মুক্ত করা হয়। ফলে পানির পরিবেশ উন্নত হয় ও মাছ পিড়নের হাত থেকে রক্ষা পায় ফলে মাছের বৃদ্ধি ভাল হয়। এটি একটি ব্যায় বহুল পদ্ধতি। মেকানিক্যাল ডিবাইজ গুলো বেশি দামের হয়ে থাকে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খরচ বেশি। ডিবাইজ গুলো নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
প্রয়োজনীয় অংশ: নিম্নে মেকানিক্যাল পদ্ধতির প্রয়োজনীয় অংশ গুলোর তালিকা দেওয়া হল।
ক. চাষ ট্যাংক
খ. ড্রাম ফিল্টার
গ. সলিড সেপারেটর ট্যাংক
ঘ. প্রোটিন এসকিমিং
ঙ. রিজার্ভার ট্যাংক
চ. ওয়াটার টিটমেন্ট ট্যাংক
ছ. এয়ার ব্লুয়ার ও অক্সিজেন সিলিন্ডার
জ. এয়ার ইনজেক্টর
ঝ. ওয়াটার হিটার ও হট ব্লুয়ার
ঞ. কন্ট্রোল সেট
ট. UV ও ওজন ফিল্টার
ঠ. কার্বন ফিল্টার
দ. অক্সিজেন জেনারেটর ইত্যাদি।

উল্লেখিত ২ টি পদ্ধতিতেই সলিড ম্যানেজ ম্যানেজমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি ২ – ৩ দিন পর অথবা পানির pH ও অ্যামোনিয়ার অবস্থা বেদে দৈনিক এক বার সলিড ট্রাপিং করতে হবে।

সলিড ট্রাপিং কি : সলিড ট্রাপিং হচ্ছে ট্যাংক এর তলায় জমে থাকা ময়লা আউট লাইন এর মাধ্যমে বের করে দেওয়া। চাষ ট্যাংক এবং সলিড সেটেলিং ট্যাংক এমন ভাবে নির্মাণ করতে হবে যাতে পানির ঘুর্নিয়ন এর ফলে ট্যাংক এর কেন্দ্র সব ময়লা এসে জমা হয়। এই জন্য ট্যাংক নির্মাণ করার সময় কেন্দ্রের দিখে একটু ঢালো রাকতে হবে।

Advertisements