pH কি : এসিড এবং ক্ষারের পরিমাপ কে pH বলা হয়।

এসিড : টক স্বাদ যুক্ত সকল পদার্থ হচ্ছে এসিড যেমন – সাইটিক এসিড, ল্যাকটিক এসিড, এসিটিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, কার্বনডাইঅক্সাইড গ্যাস ইত্যাদি।

ক্ষার :যে সব পদার্থ ক্ষার ধর্মি বৈশিষ্ট্য বহন করে তারাই ক্ষার। যেমন – পাথুরে চুন ( ক্যালসিয়াম অক্সাইড), কৃষি চুন ( ক্যালসিয়াম কার্বোনেট) , ডলো মাইট ( ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম কার্বোনেট) , স্লেট লাইম ( ক্যালসিয়াম হাইড্রো আক্সাইড)
অ্যামোনিয়া গ্যাস ইত্যাদি।

pH স্কেল কি: pH এর কোন একক নেই। তবে এর একটা পরিমাপক স্কেল রয়েছে যার সীমা ১ – ১৪ এর মধ্যে থাকে। আর এই স্কেল এর মধ্যম মান হচ্ছ ৭, আর এই মানকে প্রশমন বলা হয় অর্থাৎ এই মান এসিড বা ক্ষারীয় কোন বৈশিষ্ট্য বহন করে না। pH স্কেল এর মান ৭ এর নিচে হলে তা এসিটিক এবং তার উপরে হলে ক্ষারীয়। চাষের জন্য মৃদু ক্ষারীয় অবস্থা ভালো।

মাছ চাষের আদর্শ pH : মাছ চাষে পুকুরে পানির pH ৭.৫ – ৮.৫ ভাল।

pH এর প্রভাব : মাছ চাষে পানির pH এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। আপনার পুকুরে এই pH মান ঠিক রাকতে পারলে, চাষে ভাল ফলা ফল পাওয়া যাবে। কারণ চাষে যত সমস্যা হয় তার মধ্যে বেশি সমস্যা হয় এর কারণে। তাই প্রতি দিন একবার করে চাষ পুকুরের পানির pH পরীক্ষা করা উচিৎ। পানির pH আদর্শ মত্রা ধরে রাখতে না পরলে মাছের খাদ্য গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায় ফলে মাছের বৃদ্ধি কমে যায়। অক্সিজেন কমে যায়, পুকুরে গ্যাস সৃষ্টি হয়। মাছ সহজে জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়, ফলে মাছ মারা গিয়ে চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

pH কমার কারণ :
১. পুকুরের মাটি এসিটিক হলে অথবা পুকুরের তলায় হাইড্রোজেন গ্যাস জমা হলে।
২.পুকুরে এসিড জাতিয় কোন কিছুর পঁচন হলে।
৩. এসিড বৃষ্টি হলে বা পানিতে কার্বনডাইঅক্সাইড এর পরিমাণ বেড়ে গেলে বা এসিড জাতিয় কোন কিছু প্রয়াগ করা হলে ইত্যাদি।

pH কেন বৃদ্ধি পায়:
১. অতিরিক্ত খাদ্যের পঁচনের ফলে।
২. প্ল্যাঙ্কটন ব্লুম হয়ে তা পঁচে গিয়ে।
৩. মাছের মল বা জৈব অংশের পঁচন।
৪. ক্ষার জাতীয় পদার্থের মাত্রাধিক ব্যাবহার।
৫. অ্যামোনিয়া, নাইট্রেট, নাইট্রাইট গ্যাসজনিত কারণ।